পাখি পালনের মধ্যে বাজরিগার (Budgerigar) বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছোট আকৃতির এই রঙিন পাখি শুধুমাত্র সৌন্দর্যেই নয়, মানুষের সাথে সহজে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করার ক্ষমতার জন্যও সবার মন কেড়ে নেয়।
বাজরিগার মূলত অস্ট্রেলিয়ার পাখি হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এটি পালন করা হয়। চলুন জেনে নেই বাজরিগার পাখি পালনের পদ্ধতি, যত্ন, খাদ্য এবং প্রজনন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত।
বাজরিগার পাখির বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?
বাজরিগার ছোট আকৃতির, আকর্ষণীয় ও রঙিন পাখি। সাধারণত সবুজ-হলুদ রঙে বেশি দেখা যায়, তবে সাদা, নীল এবং অন্যান্য রঙেরও বিভিন্ন জাত রয়েছে। এরা বুদ্ধিমান, সহজে শব্দ অনুকরণ করতে পারে এবং সামাজিক প্রাণী হওয়ায় দলে বাস করতে পছন্দ করে।
বাজরিগার পাখির খাঁচা নির্বাচন
বাজরিগার পালনের জন্য প্রথমেই উপযুক্ত খাঁচা নির্বাচন করা জরুরি। – খাঁচার আকার প্রশস্ত হতে হবে যাতে পাখি সহজে উড়তে ও চলাফেরা করতে পারে। – খাঁচায় বসার জন্য কাঠের ডাল বা পার্চ রাখতে হবে। – পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে খাঁচা নিয়মিত ধুয়ে ফেলতে হবে। – আলো-বাতাস প্রবাহিত হয় এমন স্থানে খাঁচা রাখা উচিত।
বাজরিগার পাখির খাদ্য তালিকায় যা রাখা উচিত
বাজরিগার সুস্থ রাখতে সুষম খাবার অত্যন্ত জরুরি। – বাজরিগারের প্রধান খাবার হলো মিলেট, ক্যানারি সিড, সূর্যমুখী বীজ ইত্যাদি। – তাজা সবজি যেমন—গাজর, শাক, পালং, লাউ ইত্যাদি দিতে হবে। – ফলের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, কমলা ইত্যাদি সামান্য পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে। – পরিষ্কার পানি সবসময় খাঁচায় রাখতে হবে এবং প্রতিদিন পরিবর্তন করতে হবে।
বাজরিগার পাখির স্বাস্থ্য পরিচর্যা
- নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার দিন।
- খাঁচা পরিষ্কার রাখুন যাতে রোগ না ছড়ায়।
- অসুস্থ হলে দ্রুত পশু-চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- সূর্যের আলো পাখির জন্য উপকারী, তাই খাঁচা এমন জায়গায় রাখুন যেখানে আলোর প্রবেশ হয়।
বাজরিগার পাখির প্রজনন
বাজরিগার সহজেই প্রজনন করতে সক্ষম। খাঁচায় প্রজননের জন্য আলাদা নেস্ট বক্স রাখতে হবে। মাদি বাজরিগার একসাথে ৪ থেকে ৬টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সাধারণত ১৮–২১ দিন সময় লাগে। বাচ্চাদের আলাদা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন—বিশেষ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ খাচায় কোয়েল পাখি পালন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
বাজরিগার পাখিকে প্রশিক্ষণ
বাজরিগারকে হাতে নেয়া, নাম ধরে ডাকা বা শব্দ অনুকরণ শেখানো সম্ভব। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কথা বলুন। ধীরে ধীরে খাবার হাতে দিয়ে পাখিকে আপন করে তুলুন। জোর করে ধরবেন না, এতে পাখি ভয় পেয়ে যেতে পারে।
বাজরিগার পালন থেকে আয়
বাংলাদেশসহ অনেক দেশে বাজরিগার ব্যবসায়িকভাবে পালন করা হয়। সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান পাখির বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন রঙের মিউটেশন বাজরিগারের চাহিদা অনেক বেশি। যারা পেশাদারভাবে এটি পালন করতে চান, তারা একটি ছোট খামার গড়ে তুলতে পারেন।
বাজরিগার পাখি পালনে সাধারণ ভুলগুলো
- অতিরিক্ত খাবার দেওয়া
- খাঁচা ছোট রাখা
- পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না করা
- পাখির প্রতি ধৈর্যশীল না হওয়া
শেষ কথা
বাজরিগার পাখি পালন সহজ, আনন্দদায়ক এবং লাভজনক একটি শখ। তবে সঠিক যত্ন, সুষম খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ ও প্রজননের সঠিক ব্যবস্থা করলে এই পাখি দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
বাজরিগার পাখি পালন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাজরিগার কতদিন বাঁচে?
উত্তর: সাধারণত বাজরিগার ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
প্রশ্ন ২: বাজরিগার কি একা পালন করা যায়?
উত্তর: এরা সামাজিক পাখি, তাই জোড়ায় বা দলে পালন করা ভালো।
প্রশ্ন ৩: বাজরিগারের খাবারে কি ভাত বা রান্না করা খাবার দেওয়া যায়?
উত্তর: না, রান্না করা খাবার এদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: বাজরিগারকে কি প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, নিয়মিত অনুশীলনে এরা সহজেই শব্দ অনুকরণ শিখতে পারে।
প্রশ্ন ৫: বাজরিগার কি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পালন করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, উপযুক্ত যত্ন নিলে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সহজেই পালন করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৬: বাজরিগার অসুস্থ হলে কী করা উচিত?
উত্তর: দ্রুত ভেটেরিনারি ডাক্তারকে দেখানো উচিত।
প্রশ্ন ৭: বাজরিগার কি ব্যবসায়িকভাবে পালন করা যায়?
উত্তর: অবশ্যই, চাহিদা ও বাজার মূল্য বিবেচনা করলে এটি একটি লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে।
প্রশ্ন ৮: বাজরিগারের ডিম ফুটতে কতদিন লাগে?
উত্তর: সাধারণত ১৮ থেকে ২১ দিনের মধ্যে বাচ্চা বের হয়।